আমাদের কলেজ

দক্ষিণ ২৪ পরগণার অন্তর্গত মগরাহাট ২নং পঞ্চায়েত সমিতির প্রধান কেন্দ্র মগরাহাট। মগরাহাট রেল ষ্টেশানের সন্নিকটে অবস্থিত মগরাহাট কলেজ। এই অঞ্চলের মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি। মগরাহাটের সমগ্র জনসংখ্যার কমবেশি ৮০% স্বাক্ষর। এই অঞ্চলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৩৪, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা-২৪ (২টি মাদ্রাসা নিয়ে) এবং উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা-১০।
মগরাহাট দক্ষিণ ২৪ পরগণার অন্যতম অনগ্রসর অঞ্চল। বিগত তিন দশকের আর্থ সামাজিক অগ্রগতি এই এলাকার মানুষদের মানসিকতার গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে তাঁর তাঁদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার আঙিনায় পাঠাতে আগ্রহী হয়েছেন। মগরাহাটের চিন্তাশীল ও সচেতন মানুষরা এলাকার এই প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে মগরাহাটে কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এই মহান উদ্যোগে এলাকার যুব সম্প্রদায়কে লিপ্ত করার উদ্দেশ্যে ১৯৯৬ সালে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য অর্থ সংগ্রহ করাও এই শিবিরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল। এই স্মরণীয় অনুষ্ঠানে পশ্চিমবাংলার তদানীন্তন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী অধ্যাপক সত্যসাধন চক্রবর্তী, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী ডঃ অসীম দাশগুপ্ত এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণার জেলা পরিষদের তদানীন্তন সভাধিপতি শ্রী ঋষি হালদার উপস্থিত ছিলেন। বহু মানুষের আত্মত্যগ ও নিষ্ঠা ফলপ্রসূ হল যখন ১৩ই আগষ্ঠ ১৯৯৬ সালে সরকারী আদেশনামা ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের অনুমোদন সাপেক্ষ মগরাহাট কলেজ তার জয়যাত্রা শুরু করল। ২০০৪ সালে মগরাহাট কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের অনুমোদিত কলেজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় (Section 2 (f) & 12 (B) of the UGC Act. 1956) এবং ২০০৭ সালে কলেজ ন্যাক (NAAC) কর্তৃক মূল্যায়িত হয়।
১৯৯৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় মগরাহাট কলেজকে ৫টি ঐচ্ছিক বিষয় পড়ানোর অনুমতি দেয়। বাংলা, ইতিহাস, রাষ্ট্রবিঞ্জান, শিক্ষাবিঞ্জান ও ইংরাজী। ২০০০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ বিভাগে ভূগোল পড়ানোর অনুমতি দেয়। ২০০১ সালে শুরু হয় বাংলা (সাম্মানিক), ২০০২ সালে ইতিহাস (সাম্মানিক), ২০০৫ সালে রাষ্ট্রবিঞ্জান (সাম্মানিক), ২০০৬ এ শিক্ষাবিঞ্জান (সাম্মানিক) ও ভূগোল (সাম্মানিক), ২০০৭ এ ইংরাজী (সাম্মানিক) এবং ২০০৯ সালে দর্শন (সাধারণ)।
মগরাহাট কলেজের প্রধান সম্পদ তার নিবেদিত প্রাণ শিক্ষাকর্মীবৃন্দ। আমাদের সব থেকে বড় সীমাবদ্ধতা ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী। তবে নিষ্ঠা ও ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি আমাদের প্রশ্নাতীত দায়বদ্ধতা আমাদের সর্বদা প্রেরণা দেয় সমস্ত প্রতিবন্ধকতার ঊর্দ্ধে উঠে সুষ্ঠুভাবে কলেজ পরিচালনা করতে। ছাত্র-ছাত্রীরা আমাদের এগিয়ে যাবার পথে প্রধান প্রেরণা।